কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫ এ ১০:১২ PM
কন্টেন্ট: নোটিশ প্রকাশের তারিখ: ২৮-০৭-২০২৫ আর্কাইভ তারিখ: ০১-০১-২০২৭
লাম্পি স্কিন ডিজিজ (Lumpy Skin Disease - LSD) বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মারাত্মক গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত গরুকে আক্রান্ত করে। এই রোগটি Capripoxvirus দ্বারা সংঘটিত হয় এবং মশা, মাছি ও টিকের মাধ্যমে ছড়ায়।
বাংলাদেশে LSD প্রথম শনাক্ত হয় ২০২০ সালের দিকে, এবং এরপর বিভিন্ন জেলায় এর প্রকোপ দেখা গেছে। এটি গরুর চামড়ায় গুটিকা, জ্বর ও দেহে ফুলে যাওয়া তৈরি করে, যা পশুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে খামারিদের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন করে।
উচ্চ জ্বর (৪০–৪১.৫°C)
চামড়ায় গুটিকা (nodules) — বিশেষ করে মাথা, ঘাড়, পিঠ, পা ইত্যাদি স্থানে।
অবসাদ ও খাওয়া কমে যাওয়া
চোখ ও নাক থেকে পানির মতো স্রাব
ল্যামিনাইটিস ও পা ফুলে যাওয়া
দুগ্ধ উৎপাদন হ্রাস
গর্ভপাত বা প্রজনন সমস্যাও হতে পারে।
দুধের উৎপাদন হ্রাস
চামড়ার গুণগতমান নষ্ট
প্রজনন সমস্যা
পশু মৃত্যুও ঘটতে পারে (বিশেষ করে বাছুর)
বর্তমানে বাংলাদেশে লাম্পি স্কিন রোগের জন্য দেশীয় ও আমদানি করা টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সাধারণত Goat pox vaccine ও এখন LSD-specific vaccine ব্যবহার করা হয়।
গরুর খামারে মশা, মাছি, টিক ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
রোগ ছড়ানো রোধে আক্রান্ত পশুকে পৃথক করে রাখতে হবে।
খামার নিয়মিত স্যানিটাইজ করা, জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করা উচিত।
চিকিৎসা, ওষুধ প্রয়োগ বা টিকা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে প্রশিক্ষিত পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
LSD-এর নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তবে উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়:
জ্বর কমানোর ওষুধ
অ্যান্টিবায়োটিক (সেকেন্ডারি ইনফেকশন ঠেকাতে)
অ্যান্টিহিস্টামিন
পুষ্টিকর খাবার ও পানি
যদি আপনার গরুর শরীরে চামড়ায় গুটির মতো কিছু দেখা দেয়, অবিলম্বে নিকটস্থ পশু হাসপাতাল বা ভেটেরিনারি অফিসে যোগাযোগ করুন।